প্রায় ছয় মাস পর প্রধান শিক্ষকের উদ্যোগে পুনরায় স্কুল মুখি হল দুই ছাত্রী। রবিবার এমন ঘটনার সাক্ষী রইল পুরাতন মালদার ভাবুক অঞ্চলের ধনাদিঘী রায় পাড়ার মানুষজন। এদিন ব্লক প্রশাসন ও প্রধান শিক্ষকের চেষ্টায় পুনরায় স্কুল মুখি হয় ওই দুই ছাত্রী।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, অর্থের অভাবে প্রায় ছয় মাস আগে স্কুল ত্যাগ করেছিল রায়পাড়ার দুই মেয়ে তথা ভাবুক রাম মার্ডি হাই স্কুলের দুই ছাত্রী চিন্তামণি কোল ও শিউলি কোল। দীর্ঘদিন ধরে ওই দুই ছাত্রী স্কুলে না আসায় তাদের সম্বন্ধে খোঁজ খবর নিতে শুরু করেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক গোপাল চন্দ্র দাস। তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ওই দুই ছাত্রীর বাবা সোনা রাম কোল প্রায় পাঁচ বছর আগে মারা যায়। যার কারনে তাদের মা অন্যের হাত ধরে নতুন সংসার শুরু করেন। এর ফলে ওই দুই ছাত্রীর পড়াশোনা ও জীবন ধারন করা এক প্রকার অসম্ভব হয়ে পরে। বাবা মাকে হারিয়ে ওই দুই ছাত্রী আশ্রয় নেয় পিসির বাড়িতে। ফলে পেটের টানে দূর হয়ে যায় তাদের পাড়াশোনা। ছুটে যায় স্কুল। আর এই সমস্যা শোনার পরে প্রধান শিক্ষক আর স্থির থাকতে পারেননি। তিনি বিষয়টি ব্লক প্রশাসনকে জানান। অবশেষে রবিবার প্রধান শিক্ষক গোপাল চন্দ্র দাস, বিডিও নরোত্তম বিশ্বাস ও মালদা থানার আই সি মানবেন্দ্র সাহাকে নিয়ে হাজির হন ওই ছাত্রীর বাড়িতে। সেখানে পরিবারের সকল সদস্যদের সরকারি সুযোগ সুবিধা সহ নিখরচায় পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেয়ে দুটির অভিভাবকদের জানানো হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারকে বিস্তর বোঝানোর পর অবশেষে পুনরায় দুই মেয়েকে স্কুলে পাঠাতে রাজী হন সকলে।
এদিকে স্কুল ছুট ছাত্রী চিন্তামণি কোল জানায়, পিসি ইট ভাটার শ্রমিক। তারা দিন আনে দিন খায়। সেই জন্য পিসি কাজে চলে গেলে তাদেরকে বাড়িতে থাকে হয়। এই কারণেই তারা স্কুল যেতে পারছিল না। যদিও এবার থেকে স্কুল যাবে বলে সে জানায়।
এবিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক গোপাল চন্দ্র দাস জানান, প্রায় ছয় মাস ধরে এই দুই ছাত্রী স্কুলে আসেনা, কারন অনুসন্ধান করে তিনি তাদের সমস্যার কথা জানতে পারেন। সেই মতো গোটা বিষয়টি ব্লক আধিকারিকদের জানান। এরপর এদিন ব্লক প্রশাসন ও তিনি নিজে এসে পরিবারকে বোঝানোর পর তারা পুনরায় স্কুল যেতে রাজী হয়।
এদিকে এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে পুরাতন মালদার বিডিও নরোত্তম বিশ্বাস জানান, বেশ কিছু দিন আগে আমরা এই দুই ছাত্রীর স্কুল ছুটের ঘটনাটি জানতে পারি। সেই খবর শুনেই তারা এদিন এই দুই ছাত্রীর পরিবারকে বোঝান যদিও তাদের বোঝানোর পর ছাত্রী দুটি স্কুলে যেতে রাজী হয়।
বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন নিচের লিংকে
https://www.youtube.com/embed/gcTs4I5osDw